আম বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল, আর বাড়ির আঙিনা থেকে বাণিজ্যিক বাগান — সব জায়গাতেই আমের চারার চাহিদা বেশি। কিন্তু চারা লাগানোর পর গাছ না বাঁচার সবচেয়ে বড় কারণ হয় ভুল সময়ে রোপণ আর গর্ত তৈরিতে অবহেলা। নিচের নিয়মগুলো মানলে চারার বেঁচে থাকার হার অনেক বেড়ে যায়।
রোপণের সেরা সময়
বাংলাদেশে আমের চারা রোপণের সবচেয়ে ভালো সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর — অর্থাৎ বর্ষার শুরু থেকে শরতের মাঝামাঝি। এই সময়ে মাটিতে রস থাকে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং নতুন চারা সহজে শিকড় গাড়তে পারে। ফেব্রুয়ারি-মার্চেও চারা লাগানো যায়, তবে তখন নিয়মিত সেচ দিতে হবে।
প্রচণ্ড রোদ বা বৃষ্টির পানি জমে এমন নিচু জমিতে চারা লাগাবেন না। জমি একটু উঁচু এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে গোড়ায় পচন ধরার ঝুঁকি কমে।
গর্ত তৈরি ও মাটি প্রস্তুতি
চারা লাগানোর অন্তত ১০-১৫ দিন আগে গর্ত খুঁড়ে রাখুন, যাতে মাটির ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যায় এবং রোদে গর্তের মাটি জীবাণুমুক্ত হয়।
- গর্তের মাপ: ২ ফুট চওড়া, ২ ফুট গভীর এবং ২ ফুট লম্বা।
- গর্তের উপরের ৬ ইঞ্চি মাটি আলাদা করে রাখুন — এটাই সবচেয়ে উর্বর অংশ।
- এই মাটির সাথে ১০-১৫ কেজি পচা গোবর বা কম্পোস্ট, ২০০ গ্রাম টিএসপি ও ১০০ গ্রাম এমওপি ভালোভাবে মিশিয়ে দিন।
- মিশ্রণটা গর্তে দিয়ে ২-৩ ইঞ্চি উঁচু করে রেখে দিন; বৃষ্টিতে মাটি বসে গেলে চারার গোড়া নিচু হয়ে পানি জমবে না।
চারা বসানোর সময়
পলিব্যাগ থেকে চারা বের করার সময় ব্যাগটি কেটে ফেলুন, শিকড় টেনে খুলবেন না। গাছের গোড়ার মাটির বলটি অক্ষত রেখে গর্তের মাঝখানে বসান, কলমের জোড়াটি যেন মাটির সমান বা একটু উপরে থাকে। মাটি চেপে দিন, তারপর চারপাশে ছোট করে বেড়া বা খুঁটি দিয়ে চারা ঠেসে বাঁধুন যাতে হেলে না পড়ে।
রোপণের পর প্রথম ৩০ দিন
সকাল বা বিকেলের দিকে প্রতিদিন হালকা করে পানি দিন, তবে গোড়ায় পানি জমতে দেবেন না। নতুন পাতা বের হওয়া শুরু হলে বুঝবেন চারা নতুন জায়গায় মানিয়ে নিয়েছে। এই সময়ে জমিতে গরু-ছাগল যেন ঢুকতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রায় ২ বছরের মধ্যে এই গাছেই আপনার প্রথম ফুল দেখতে পাবেন।